বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল নগরীর বিউটি রোডে সংঘবদ্ধ চক্র কর্তৃক ফের আবাসিক হোটেলগুলোতে চালিয়ে আসছে দেদারছে ইয়াবা ও নারী দেহ ব্যবসা। পাশাপাশি চক্রটি খদ্দরদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। হোটেলগুলোতে ১০ মিনিট, ঘণ্টা, নাইট, চুক্তিতে রুম ভাড়া দেয়া হচ্ছে। হোটেলের পক্ষ থেকে বোর্ডারদের কাছে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এসব অনৈতিক ব্যবসা দিন দিন বেড়েই চলছে। অভিযোগ উঠেছে, অসাধু পুলিশকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ ও তাদের অনৈতিক কাজের সুযোগ দিয়ে মাদক ও নারী ব্যবসা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিউটি রোডে দীর্ঘসময়ব্যাপী আবাসিক হোটেলের নামে মাদক ও নারী দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। চক্রের মূল হোতা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিউটি রোড ও আশপাশে গালিব, অন্তরা, এয়ার-ফারুক, বন্ধুজন, গোল্ডেন প্যালেস, হাওলাদার বোডিং। এসব হোটেলের ম্যানেজার বা কর্মচারীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী এবং ওইসব দেহ ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে। হোটেলের লোকজন খদ্দেরদের নারী ও মাদক এনে দেয়। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাক ও বোরখা পরে নারীরা আসে। কয়েকটি হোটেলে কাজের বুয়া হিসেবে অনেক মেয়ে রাখা হয়ে থাকে। অভিজাত পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরাও হোটেলে সময় কাটায়। খদ্দের অনুসারে প্রতি ঘণ্টা রুম ভাড়া নেয়া হয় এক হাজার টাকা। আবার সারারাত কাটালে দেড় থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। হোটেলের রুমে মাদক সেবন ও জুয়ার জন্যও ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে। হোটেলের লোকজন মাদকসেবীদের চাহিদা অনুসারে ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য এনে দেয়। কোনো কোনো হোটেলে অস্ত্র ব্যবসা হয়। মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে লেখালেখির কারণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও অনৈতিক কাজে আসা নারী-পুুরুষকে গ্রেফতার করেও টাকার বিনিময়ে পথিমধ্যে অনেককে ছেড়ে দেয়া হয়। চালানো হয় নামকাওয়াস্তে অভিযান। মাঝে মাঝে কাউকে কাউকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়ে সাজার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। কিন্তু সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় হোটেল মালিকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিউটি রোডের আবাসিক হোটেলগুলোতে মেয়ে সরবরাহ করেন রবিউল নামের এক যুবক। সে অসাধু পুলিশ ও কথিত সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এহেন কাজ চালিয়ে আসছে। সরজমিনে বিউটি রোড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হাওলাদার বোডিংয়ের স্টাফ রবিউল ভূমি অফিস লাগোয়া পোর্টরোর্ড, চকবাজারের বিউটি রোডে দাড়িয়ে পথচারিদের ডেকে ডেকে বলছে- হোটেলে সিট আছে, লাগবে লাগবে, ভালো মাল আছে। এরকম আরো কয়েকজন রবিউলের মতো পথচারীদের ডেকে ডেকে বলছে- লাগবে লাগবে, এদিকে আসেন। আবার কারো হাত ধরে টানাটানি শুরু করে বলে ভালো জিনিস আছে আসেন।
রোববার (২৯ অক্টোবর) রাতে এভাবেই বিউটি রোডের মুখে দাড়িয়ে পথচারীদের হোটেলে নেওয়ার জন্য ডাকাডাকা করে হাওলাদার বোডিং এর স্টাফ রবিউল। এতে পথচারীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। হাওলাদার বোডিং এর মালিক জাকির ও খলিল। স্টাফ রবিউলের মাধ্যমে পথচারীদের ডেকে ডেকে হোটেলে আসার জন্য প্রতিনিয়ত এভাবেই টানাহেচরাও করে।
২৯ অক্টোবর রাতে ইউনিভার্সেল নিউজের অনুসন্ধানী টিমের সামনে পড়ে রবিউল। এরপর রবিউল বলেন, হোটেল ভালো মাল আছে লাগবে। অনুসন্ধানী টিমটি রবিউলের পিছু নেয়। তাকে বলা হয়- কোন হোটেলে নারী আছে? তখন সে বলেন, বিউটি রোডের হাওলাদার বোডিংয়ে। হাওলাদার বোডিংয়ের সামনে গিয়ে সেখান থেকে অনুসন্ধানী টিমের সদস্যদের নিয়ে যান গালিব হোটেলে। গালিবের দ্বীতিয় তলায় উঠার পর দেখা যায় ৫ নারী দেহ ব্যবসায়ী। রবিউল বলেন, পছন্দ হয়েছে? অনুসন্ধানী টিম তখন বলেন, না, পছন্দ হয়নি। এরপর সেখান থেকে গালিবের টিমটি কাউন্টারে আসে। তখন হোটেল স্টাফ রবিউল হুঙ্কার দিয়ে বলেন, পছন্দ হয়নি, তাহলে এখানে এসেছেন কেন? এবং নানা ধরণের কুরূচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তখন গালিবের কাউন্টারে দায়িত্বরত তিন যুবক বসা। গালিব হোটেলের মালিক কে মনির নাকি এরকম প্রশ্ন করলে তারা মনিরের কথা এড়িয়ে গিয়ে বলেন এটার মালিক মনির নয় অন্য এব ব্যক্তি। মালিককে ফোন দেওয়ার কথা বললে তারা কোন কর্নপাত না করে বলেন, ভাই আপনার প্রেসের লোক আগে বলবেন না।
স্টাফ রবিউল একজনকে ফোনে বলে-জামাল ভাই দেখেন তো এখানে কোন কোন সাংবাদিক এসেছে। টিমের সদস্যদের ফোনে ধরিয়ে দিলে তখন জিজ্ঞাসা করা হয় কে? তখন বলে সাংবাদিক জামাল আপনাদের সাথে কথা বলবে। টিমের সদস্যরা বলল-জামাল কে? সেকি এই হোটেলের মালিক নাকি শেয়ার? বলল সাংবাদিক জামাল ভাই, তাকে আপনার চেনেন? টিমের সদস্যরা বলল, জামালের মতো এরকম কতজন সাংবাদিক আছে, আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তাদের নাম বলেন, তখন রবিউল বলেন, বরিশালের অসংখ্য সাংবাদিকই এখানে নিয়মিত আসে, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা নিয়মিত থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে চলি। পরবর্তীতে ফোনে অপরপ্রান্ত থেকে জামাল নামের ব্যক্তি বলল, ওখানে কি হয়েছে? টিমের সদস্য বললেন- কি হয়েছে, এটাতো তোমার জানার কথা। কারণ নারী দেহ ব্যবসায়ীরা তোমাকে ফোন দিয়েছে, কেন দিয়েছে তাদের কাছেই জিজ্ঞাসা কর?
এরপর সেখান থেকে বিউটি রোডের হাওলাদার বোডিংয়ের সামনে এসে হাওলাদারের মালিকের খোঁজ নেওয়া হলে সেখানকার লোকজন বলেন, হাওলাদারের মালিক জাকির এবং খলিল। তখন স্টাফ রবিউল বলেন, আপনারা কারা দেখতেছি বলে একজনকে ফোন দেয়। স্টাফ রবিউল একজনকে ফোনে বলে-জামাল ভাই দেখেন তো এখানে কোন কোন সাংবাদিক এসেছে। টিমের সদস্যদের ফোনে ধরিয়ে দিলে তখন জিজ্ঞাসা করা হয় কে? তখন বলে সাংবাদিক জামাল আপনাদের সাথে কথা বলবে। টিমের সদস্যরা বলল-জামাল কে? সেকি এই হোটেলের মালিক নাকি শেয়ার? বলল সাংবাদিক জামাল ভাই, তাকে আপনার চেনেন? টিমের সদস্যরা বলল, জামালের মতো এরকম কতজন সাংবাদিক আছে, আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তাদের নাম বলেন, তখন রবিউল বলেন, বরিশালের অসংখ্য সাংবাদিকই এখানে নিয়মিত আসে, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা নিয়মিত থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে চলি। পরবর্তীতে ফোনে অপরপ্রান্ত থেকে জামাল নামের ব্যক্তি বলল, ওখানে কি হয়েছে? টিমের সদস্য বললেন- কি হয়েছে, এটাতো তোমার জানার কথা। কারণ নারী দেহ ব্যবসায়ীরা তোমাকে ফোন দিয়েছে, কেন দিয়েছে তাদের কাছেই জিজ্ঞাসা কর? কিছুক্ষণ পর হোটেল মালিক জাকির সামনে এসে বলেন, ভাই ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে। আরেক হোটেলের স্টাফ বলেন, ভাই ও বুঝতে পারে নাই, ওই ছেলে (রবিউল) একটা বেয়াদপ। আপনারা সাংবাদিক মাফ করে দেন। এরমধ্যে হাওলাদার বোডিংয়ের খলিল এবং তার সহযোগী মিলন নামের আরেক ব্যক্তি লাপাত্তা হয়ে যান।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply